বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রীবরদীতে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জনপ্রিয় এই নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে, যা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। বুধবার দিনভর কয়েক দফা জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যেই এই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
কয়েক দফা জানাজা ও মানুষের ঢল
নুরুজ্জামান বাদলের জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের সংখ্যা এতই বেশি ছিল যে, নির্ধারিত স্থানে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথম জানাজা: বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় জানাজা: বিকেল ৫টায় শেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এ অবস্থায় পরে শ্রীবরদী সরকারি মিনি স্টেডিয়াম মাঠে জানাজা সম্পন্ন করা হয়।
রাজনৈতিক সংহতির বিরল চিত্র
জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন নুরুজ্জামান বাদলের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। শেরপুর পৌর পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হজরত আলী, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, শ্রীবরদীর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। দলীয় আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের এই অংশগ্রহণ এলাকায় এক বিরল সৌজন্যের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁদের প্রিয় অভিভাবককে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নির্বাচন স্থগিত ও পরবর্তী পরিস্থিতি
আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এই আসনের জন্য নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নুরুজ্জামান বাদল কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, বরং একজন সমাজসেবক হিসেবেও এলাকায় তাঁর সুনাম ছিল। কয়েক দিন আগেই নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের দাফনের শোক কাটতে না কাটতেই মূল প্রার্থীর এই চলে যাওয়া শেরপুর জেলা জামায়াতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

