দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় এক অনন্য রাজনৈতিক সৌজন্য ও ঐক্যের চিত্র ফুটে উঠল বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে। বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের প্রার্থী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থন ঘোষণা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্দোলন-সংগ্রামের এই সহযোগীকে ‘নিজেদের লোক’ হিসেবে অভিহিত করে তাকে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তিনি।
সুদীর্ঘ ২০ বছর পর বরিশাল বিভাগে তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে বইছে উৎসবের হাওয়া। জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যখন নুরুল হক নুরের নাম উচ্চারণ করেন, তখন উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী হর্ষধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানান। তারেক রহমান বলেন, “ট্রাক মার্কার নুরু এই এলাকারই সন্তান। আমাদের রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে সে সব সময় পাশে ছিল। তাকে আপনারা দয়া করে বিজয়ী করে নিয়ে আসবেন। সে আমাদেরই একজন।”
জোটবদ্ধ লড়াই ও আন্দালিব রহমান পার্থের প্রসঙ্গ
বক্তব্যে কেবল নুরু নয়, তারেক রহমান বিএনপি জোটের অপরাপর শরিক দলগুলোর প্রার্থীদের প্রতিও সমান গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে ভোলা-১ আসনে জোট মনোনীত প্রার্থী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের পক্ষেও তিনি ভোট প্রার্থনা করেন। পার্থের সংসদীয় দক্ষতা ও রাজপথের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি জোটের সংহতি প্রকাশ করেন।
এদিন মঞ্চে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের ১৯ জন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং ২ জন জোট মনোনীত প্রার্থীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে জোটের প্রতিটি প্রার্থীই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে জাতীয় লক্ষ্যকে বড় করে দেখার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেন।
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের রূপরেখা
রাজনৈতিক প্রচারণার পাশাপাশি তারেক রহমান পটুয়াখালী, ভোলা ও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত জনপদগুলোর উন্নয়নে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতৃত্বের প্রতি তারেক রহমানের এই প্রকাশ্য সমর্থনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি কেবল একটি আসনের ভোট প্রার্থনা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সাথে বিএনপির সেতুবন্ধন তৈরির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
উৎসবমুখর বরিশাল ও নুরের প্রতিক্রিয়া
তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য সকাল থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে বেলস পার্ক। দীর্ঘ দুই দশক পর নেতার সশরীরে উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা জোগায়। এদিকে তারেক রহমানের এই আহ্বানের পর পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নুরুল হক নুর এক প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ঐক্য কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার শপথ। গলাচিপা ও দশমিনার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির এই প্রকাশ্য সমর্থন নুরের ‘ট্রাক’ মার্কার পালে নতুন হাওয়া লাগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সমর্থকরা।

