নির্বাচনের ক্ষণগণনা যত কমছে, প্রার্থীরা ততই চড়া সুরে ভোটারদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজা আজ এক সাহসী ও আলোচিত দাবি করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, আগামী ৯ দিন পর ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর আসনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এক নারী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক নানা অভিযোগের কড়া জবাব দেন। আমির হামজা অভিযোগ করেন, দলের প্রধানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে তার অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কুৎসা রটানো হচ্ছে।
তবে এই পরিস্থিতিকে তিনি রাজনৈতিক বিজয়ের ‘পূর্বলক্ষণ’ হিসেবে দেখছেন। বিশ্ব রাজনীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “অতীতের ইতিহাস বলে, যাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়েছে, পরবর্তীতে তারা ক্ষমতায় বসেছেন। ২০০৯ সালে বারাক ওবামার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল ১৫ জানুয়ারি, আর ২০ জানুয়ারি তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হন। জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে নির্বাচনের মাত্র ৭ দিন আগে। আমরাও বিশ্বাস করি, ডা. শফিকুর রহমানের সাথে যা ঘটছে, তা তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
মুফতি আমির হামজা ডা. শফিকুর রহমানকে একজন ‘মানবিক’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার কাছে দল, মত, ধর্ম বা বর্ণের কোনো বিভেদ নেই। এমন একজন নেতা ক্ষমতায় আসলে দেশের সব শ্রেণির মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার বিষয়েও বড় প্রতিশ্রুতি দেন এই আলোচিত বক্তা। তিনি বলেন, “আমরা চাই মায়েরা যেন ঘরে বসে সম্মানজনক কাজ করতে পারেন। হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আপনাদের আয়ের ব্যবস্থা করব। নারীরা যখন আর্থিকভাবে সচ্ছল হবে, তখন সমাজে অরাজকতা এমনিতেই কমে আসবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, আপনাদের সংসারের হাল ধরতে সরাসরি সহায়তা করা।”
কুষ্টিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির হামজা বলেন, “কুষ্টিয়া জেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হার তুলনামূলক বেশি। আমরা নির্বাচিত হয়ে সন্ত্রাসীদের কোমর ভেঙে দিতে চাই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে মানুষ ঘরের দরজা খুলে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষের তৈরি গত ৫৪ বছরের শাসনে আমরা কেউ শান্তিতে নেই। যদি আল্লাহর বিধান কায়েম করতে না পারি, তবে আজীবন আফসোস করতে হবে। তাই ফ্যাসিস্টমুক্ত এক শান্ত বাংলাদেশ গড়তে ব্যালটে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন।”
বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি কর্মীদের আগামী কয়েকটা দিন সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমির হামজার এই ‘প্রধানমন্ত্রী’ হওয়ার দাবি মূলত ভোটারদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজয়গাথা তৈরির কৌশল। তবে ৯ দিন পরের নির্বাচনী ফলাফলই বলে দেবে কুষ্টিয়ার এই প্রার্থীর ভবিষ্যৎবাণী কতটা বাস্তবসম্মত।

