আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘ দুই দশক পর সশরীরে ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শহরের ঐতিহাসিক সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
ফরিদপুরের মাটিতে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জনসভা। এর আগে ২০০৫ সালে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি নিলেও জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সুযোগ হয়নি তার। ফলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচটি জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জনসভা সফল করতে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। মাঠের দক্ষিণ দিকে দক্ষিণমুখী করে ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের একটি সুবিশাল মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। মাঠ ব্যবহারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং জনসভা আয়োজনের জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ইতোমধ্যে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া জানিয়েছেন: জনসমাগম: আশা করা হচ্ছে, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেবেন। প্রার্থী পরিচিতি: সমাবেশে এই অঞ্চলের ১৫টি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান। সফরের সূচি: বুধবার দুপুরে বরিশাল থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি ফরিদপুর পৌঁছাবেন। জনসভা শেষে তিনি মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে নির্বাচনী সফর করছেন। ফরিদপুর ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই জনসভাকে কেন্দ্র করে হারানো জনসমর্থন পুনরুদ্ধার ও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ ও সংলগ্ন জেলাগুলোতে বিএনপির শক্ত অবস্থান জানান দিতে এই জনসভা বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

