বিগত দেড় বছর ধরে যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মা-বোনদের অবমাননা করেছে, ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, ভোটের সময় রঙিন স্বপ্ন দেখানো এসব সুবিধাবাদীদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের প্রধান দিকসমূহ: ১. কর্মসংস্থান ও কৃষিনির্ভর রাজনীতির প্রতিশ্রুতি আবু সাদিক কায়েম বলেন, “জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গকে কৃষিনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশে ৫০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। এমনকি যারা এখন চাঁদাবাজি করছেন, তাদেরও সঠিক পথে ফিরিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।” এছাড়াও নারীদের জন্য মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
২. নেতৃত্বের তুলনা ও সংহতি জামায়াত আমীরের প্রশংসা করে ডাকসু ভিপি বলেন, “ডা. শফিকুর রহমান দেশের প্রতিটি দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিলেন, মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। আমরা তাকেই বিশ্বাস করব যিনি করে দেখিয়েছেন, তাকে নয় যিনি দেড় বছর পর এসে শুধু বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।”
৩. গণভোট ও ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে একইসাথে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট প্রসঙ্গে কায়েম বলেন, “নির্বাচনে দুটি ব্যালট হবে। এর মধ্যে অবশ্যই আমাদের ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে বাংলাদেশ, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি এবং ‘হ্যাঁ’ মানে শহীদ ওসমান হাদির আদর্শের জয়। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্যই এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করা জরুরি।”
৪. ভারতের ‘প্রেসক্রিপশন’ নিয়ে সমালোচনা তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের কারণে দেশ ভারতের প্রেসক্রিপশনে চলেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

