সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে আবারও অস্বস্তির খবর। জানুয়ারির রেশ কাটতে না কাটতেই ফেব্রুয়ারির জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরেক দফা বাড়িয়েছে সরকার। এবারের সমন্বয়ে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তাদের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন দর ঘোষণা করে। সংস্থার চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই বর্ধিত এই দাম কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারিও এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দুই দফায় রান্নার গ্যাসের দাম প্রায় ১০৩ টাকা বৃদ্ধি পেল।
গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানি অটোগ্যাসের ক্ষেত্রেও খবরটি সুখকর নয়। বিইআরসি জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে প্রতি লিটার অটোগ্যাস পেতে গ্রাহককে গুনতে হবে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা (মূসকসহ)। গত জানুয়ারিতে এই দাম ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের দাম (সৌদি সিপি) বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে এই সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির (এলপিজিএল) সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, দাম নির্ধারণ করা কমিশনের আইনি দায়িত্ব। বাজারে যেন নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে আমদানিকারকদের সাথেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে সামান্য কমানো হলেও রান্নার গ্যাসের এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচে নতুন করে চাপের সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

