“যতদিন পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হবে, ততদিন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ থাকবে।” রোববার দুপুরে শেরপুরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১১ দলীয় জোটের এই সমাবেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের মানুষ এখন জেগে উঠেছে এবং তাদের এই জাগরণই হবে আগামী দিনের পাহারাদার।
বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াত আমির দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সমাজ থেকে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মতো ব্যাধিগুলো চিরতরে নির্মূল করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে তুচ্ছ স্বার্থে কোনো হানাহানি হবে না। রাজনীতির নামে মানুষ খুনের সংস্কৃতিকে আমরা ঘৃণা করি।”
নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভোটের মাঠে কেউ যদি সন্ত্রাস চালাতে চায়, তবে তার সমান পরিমাণ জবাব দেওয়া হবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাতে হবে। যদি দেখা যায় প্রশাসন নীরব বা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য দিচ্ছে, তবে জনপদ রক্ষায় তা প্রতিহত করা তখন দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে।”
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের বেকার ভাতার লাইনে দাঁড় করাতে চাই না। তাদের জন্য সম্মানজনক হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য। আগামীর বাংলাদেশকে যদি একটি উড়োজাহাজ ধরা হয়, তবে এর ককপিটে থাকবে আমাদের যুবসমাজ, আর আমরা থাকব সাধারণ যাত্রীর আসনে। তোমরাই আমাদের আসল শক্তি।”
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তি ও ব্যক্তিগত এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির জানান, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীদের নিয়ে অরুচিকর পোস্ট করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারাই এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিল। যদি কোনো মা এই অপপ্রচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে মনে রাখবেন, মায়ের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে।”
শেরপুরের স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই কৃষিপ্রধান অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দিয়েছে এবং ফায়দা লুটছে, যা পুরোপুরি ‘হারাম’। বিপরীতে জামায়াত কেবল প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি শেরপুর-১ আসনে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনে মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি এবং শেরপুর-৩ আসনে নুরুজ্জামান বাদলের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক তখন করতালির মাধ্যমে প্রার্থীদের স্বাগত জানান।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে উপস্থিত সকলকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান জোটের নেতারা।

