বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডের মধ্যে চলমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজের চূড়ান্ত এবং সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের প্রাক্কালে আইরিশ শিবির তাদের জয়ের কৌশল স্পষ্ট করেছে। যদিও পরিসংখ্যান এবং ঐতিহ্যের বিচারে বাংলাদেশ দল এগিয়ে, প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয় পাওয়া আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে। তবে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তারা ‘আগ্রাসী ক্রিকেট’ খেলার মাধ্যমে সিরিজ জয়ের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
আয়ারল্যান্ড দলের প্রধান কোচ হেইনরিখ মালান আজ (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে দলের মানসিকতা, প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাদের প্রধান কৌশল।
আয়ারল্যান্ডের প্রধান কোচ হেইনরিখ মালান জানিয়েছেন, যদিও প্রথম দুই ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক, তবুও উন্নতির আরও অনেক জায়গা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উন্নতিগুলো তারা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন।
কোচ মালান বলেন, “আমরা গত দুটি ম্যাচে বেশ ভালোই করেছি। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি উন্নতি করা। আশা করি আগামীকাল (মঙ্গলবার) আমরা সেই উন্নতিগুলো মাঠে দেখাতে পারব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সিরিজটিকে তারা আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “সামনে বিশ্বকাপ, এটা মাথায় রেখেই আমরা এই সিরিজ শুরু করেছি। হয়তো যতটা ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম, ততগুলো খেলতে পারিনি। তবে এটা এখন অতীত, আমরা বর্তমান নিয়েই সব ভাবনা চিন্তা করছি। আমরা আমাদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া (Process) মেনে ভালো খেলে যেতে চাই, আগামীকালও এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
মালান জোর দিয়ে বলেছেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী খেলার স্বাধীনতা দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “আমরা চাই টি-টোয়েন্টিতে আমাদের ক্রিকেটাররা নিজেদেরকে পুরোপুরি মেলে ধরুক। টি-টোয়েন্টি সাধারণত রান-প্রসবা উইকেটেই খেলা হয়, যেখানে রান বেশি আসে। আমাদের ছেলেরা শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।” কোচের এই বার্তা দলটির উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং আক্রমণাত্মক খেলার কৌশলের প্রতি সমর্থন জোগায়।
আয়ারল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মূল কাণ্ডারিদের মধ্যে অন্যতম হলেন দলের ওপেনার টিম টেক্টর। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ৩২ ও ৩৮ রানের দুটি মূল্যবান ও আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেছেন। তিনিও সংবাদ সম্মেলনে দলের আগ্রাসী কৌশলের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন।
টিম টেক্টর জানান, দ্রুত রান তোলার জন্যই তারা মাঠে নামবেন। ব্যাটিংয়ে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “পাওয়ার প্লে-তে আমার ভূমিকাটা আমার কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট পূর্ব-পরিকল্পনা নিয়ে খেলেন না, বরং প্রতিটি বলকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেন।
টেক্টর বলেন, “আমি পুরো মাঠ বিচার করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব রান তুলতে চাই।” এই মন্তব্যটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আধুনিক ব্যাটিং কৌশলেরই প্রতিফলন—যা ঝুঁকি নিয়ে হলেও প্রথম ছয় ওভারে (পাওয়ার প্লে) সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে চায়। টেকটরের মতো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন মনোযোগী এবং আক্রমণাত্মক কৌশল সিরিজ জয়ের জন্য আয়ারল্যান্ডের প্রাথমিক অস্ত্র হতে পারে।
বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডের মধ্যে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের জয় বাংলাদেশের প্রতি তাদের আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ালেও, আয়ারল্যান্ড দেখিয়েছে যে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা রাখে।
আয়ারল্যান্ডের জয়ের কৌশল: শুরুর আক্রমণ: টিম টেকটরের মতো ব্যাটসম্যানদের ব্যবহার করে পাওয়ার প্লে-তে দ্রুততম সময়ে বেশি রান সংগ্রহ করা, যাতে ইনিংসের বাকি অংশকে চাপমুক্ত রাখা যায়। স্বাধীন খেলা: খেলোয়াড়দের তাদের সহজাত খেলা খেলতে উৎসাহিত করা, যা টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য এনে দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি: এই সিরিজকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখা, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের মান বাড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আয়ারল্যান্ডের এই ‘আগ্রাসী মনোবৃত্তি’ বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ঘরের মাঠে খেললেও, বাংলাদেশকে তাদের বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে আইরিশ ব্যাটসম্যানদের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ শটগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয় লাভ করে আয়ারল্যান্ড কেবল একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের রেকর্ডই গড়বে না, বরং আসন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের আত্মবিশ্বাসকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
