আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক চুলও ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঝালকাঠিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে কোনো ধরণের জটলা বরদাশত করা হবে না। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই হবে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়; এটি আমাদের দেশের ভাবমূর্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাবিকাঠি। তাই একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া আমাদের সবার জাতীয় দায়িত্ব।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিন্দুমাত্র অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্র দখল বা প্রভাব খাটানোর কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।” ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন রুখতে সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশনা দেন তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধির খুটিনাটি উল্লেখ করে কমিশনার জানান, এবার ভোটকক্ষে কোনো ভোটার বা ব্যক্তি কলম নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না; ভোট প্রদানের জন্য কেবল সরবরাহকৃত পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে তিনি জানান।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, নির্বাচনের দিন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ মাঠে থাকবে। ঝালকাঠির প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
সভায় উপস্থিত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার ইয়াসির আরাফাত নিজ নিজ বাহিনীর প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। তারা নিশ্চিত করেন যে, ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জটলা নিয়ন্ত্রণ এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
ঝালকাঠির এই সমন্বয় সভা থেকে ইসি সানাউল্লাহর বার্তাটি সারা দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের রায় যাতে কোনো ধরণের চাপ ছাড়াই প্রতিফলিত হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে কমিশন। এখন দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ের এই কঠোর নির্দেশনা ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কতটা উৎসবমুখর করতে পারে।

