আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র যখন নতুন এক রূপ নিচ্ছে, তখন নজর এখন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের দিকে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে যাচ্ছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই পরিচিত মুখ—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তারা পলাশ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গণসংযোগ ও পথসভা করবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের কাছে নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও এনসিপির রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা পৌঁছে দেওয়া। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই দুই তরুণ নেতা মাঠ পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে চাইছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নরসিংদী-২ আসনটি এনসিপির জন্য একটি প্রেস্টিজ লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসনে ১০-দলীয় জোটের শরিক হিসেবে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম সারোয়ার (সারোয়ার তুষার) লড়ছেন ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে। তবে আসনটি নিয়ে জোটের ভেতরে কিছুটা অস্বস্তিও রয়েছে। যদিও জোটের পক্ষ থেকে আসনটি এনসিপিকে ছাড়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার না হওয়ায় এখানে একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় দুই নেতার এই আগমনকে কেন্দ্র করে পলাশ উপজেলা এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’ ও ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় মাইকিং, পোস্টারিং এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। দলের স্থানীয় সমন্বয়কারীরা মনে করছেন, নাহিদ ও আসিফের সশরীরে উপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ তাদের বক্তব্যে বরাবরই ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ ও ‘বাংলাদেশপন্থা’র ওপর জোর দিয়ে আসছেন। পলাশের এই সফরেও তারা সুশাসন, চাঁদাবাজি মুক্ত সমাজ এবং কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, তারা জোটবদ্ধ রাজনীতির গুরুত্ব এবং কেন এনসিপিকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন—সেই ব্যাখ্যাও তুলে ধরবেন।
তবে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, মাঠের চ্যালেঞ্জও কম নয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে এখানে বিএনপির আধিপত্য দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের এই সফরকে কেবল একটি নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না অনেকে; বরং এটি পুরাতন ধারার রাজনীতির বিপরীতে নতুন এক মেরুকরণের চেষ্টাও বটে। বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছে দলটি।

