ভোলা ভোটের রাজনীতির প্রচলিত প্রথা ভেঙে এক ব্যতিক্রমী ডাক দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার লালমোহনে এক অভিভাবক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অন্ধভাবে দল দেখে নয়, বরং প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দেওয়া উচিত।
মেজর হাফিজের মতে, আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে গুন্ডা-পান্ডা বা পেশিশক্তির রাজনীতির কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, “আমি অন্ধ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ—দল দেখে ভোট দেবেন না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন। যাকে মনে করবেন আপনাদের নেতা হওয়ার যোগ্য, তিনি যে দলেরই হোন, তাকেই সমর্থন দিন।”
রাজনীতিতে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “অশিক্ষিত ও মূর্খদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির যে কলঙ্কিত রূপ আমরা দেখছি, তা দেশকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে।” তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক এবং শিক্ষিত ব্যক্তিদেরই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।
লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এই সভায় তিনি পাকিস্তান আমল ও বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন। হাফিজের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর অশিক্ষিত ও সুযোগসন্ধানী একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। বিশেষ করে গত ১৬ বছরের আওয়ামী শাসনকে তিনি দেশের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
প্রতিবেশী দেশের প্রভাব নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ ভারতের অনুগত হয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। এমনকি এখনো ভারত থেকে বসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের মোক্ষম সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনসহ উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সবাই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। মেজর হাফিজের এই ‘ব্যক্তি দেখে ভোট’ দেওয়ার আহ্বান স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা প্রথাগত দলীয় রাজনীতির বাইরে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

