দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার নওগাঁয় পা রাখছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। সারা দেশে চলমান নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তার এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের এই জনপদে এখন সাজ সাজ রব। শহরের ঐতিহাসিক এটিম মাঠে আয়োজিত এই জনসভাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ।
বুধবার দুপুরে এটিম মাঠ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক কর্মযজ্ঞের দৃশ্য। বিশাল মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, মাঠজুড়ে লাগানো হচ্ছে শক্তিশালী মাইক এবং আলোকসজ্জা। কয়েক শ শ্রমিক ও ডেকোরেটর কর্মী ব্যস্ত সময় পার করছেন জনসভাস্থলকে প্রস্তুত করতে। দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণ।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন এই আয়োজন নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা নওগাঁবাসীর সামনে কথা বলবেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং আমাদের জন্য এটি ঈদের আনন্দের মতো। নওগাঁর সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আগামী দিনের রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে তার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, সেগুলো তিনি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন।”
বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেক রহমানের এই ভাষণ শুনতে কেবল শহর নয়, জেলার প্রত্যন্ত উপজেলাগুলো থেকেও সাধারণ মানুষের ঢল নামবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, কালকের জনসভায় অন্তত ২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। এই বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে এবং নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে জেলা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব।
নিরাপত্তার বিষয়ে মামুনুর রহমান রিপন জানান, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে জনসভাস্থলে নিয়ে আসা হবে। এছাড়া দলের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে সক্রিয় থাকবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে বিমানে করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারেক রহমান। সেখানে একটি সমাবেশ শেষ করে সরাসরি সড়কপথে নওগাঁর এটিম মাঠে এসে পৌঁছাবেন বিকেল ৩টায়। এই জনসভা শেষে সন্ধ্যায় তার বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনী আবহে তারেক রহমানের নওগাঁ সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরবঙ্গে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলাগুলোতে দীর্ঘ সময় পর শীর্ষ নেতার সরাসরি উপস্থিতি তৃণমূলের কর্মীদের মনে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এই সফর বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দীর্ঘ ২০ বছর আগে যখন তারেক রহমান শেষবার নওগাঁয় এসেছিলেন, তখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। এখন দুই দশক পর তার ফিরে আসা দলটির নেতাকর্মীদের কাছে কেবল রাজনৈতিক নয়, একটি আবেগীয় বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল বিকেলের এই জনসভা নওগাঁর রাজনীতিতে কোনো নতুন মোড় নিয়ে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

