নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের প্রভাব খাটানো বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের কাছে আমরা নিশ্চিত করতে চাই—আমাদের হাতেই আপনাদের ভোট নিরাপদ।”
জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসি সানাউল্লাহ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে অহেতুক ভিড় জমানো বা ভোটারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। যারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, উল্টো তাদের মনেই ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, এবারের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আমাদের অবস্থান, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—সবই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে। গণতন্ত্রের ঘাটতি থাকলে দেশের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তা আমরা অতীতে প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা আর সেই পথে হাঁটতে চাই না।”
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহারের পরিবর্তে পেন্সিল ব্যবহারের এক নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ভোট জালিয়াতি বা ব্যালট পেপার নষ্ট করার সুযোগ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোট কেনাবেচা বা অবৈধ লেনদেন ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন দেখলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কমিশনার সানাউল্লাহ তিনটি মূল নীতির কথা উল্লেখ করেন: স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। তিনি বলেন, কোনো পক্ষপাতিত্ব বা একপেশে নির্দেশনা কমিশন থেকে দেওয়া হবে না। নির্বাচনি এলাকায় ১০ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল বিচারক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তায় এবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হতে পারে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, চাঁদপুর জেলায় পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৩৬ জন। প্রবাসী ভোটারের সংখ্যার দিক থেকেও এই জেলাটি দেশের মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। পোস্টাল ভোট যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয় এবং প্রকৃত ভোটারই যেন তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আরও যোগ করেন, এবারের নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের বড় ভূমিকা থাকবে। তবে অপেশাদার কেউ যেন সাংবাদিকতার নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। একটি উৎসবমুখর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়াই পুনর্গঠিত এই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
বিকেলের দিকে সভা শেষে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন এবং আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তার এই কঠোর অবস্থান চাঁদপুরের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

