দীর্ঘ ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লার মাটিতে পা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ফুলতলী মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় যোগ দেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে এই জনসভাটি পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে।
বিকেল গড়ানোর আগেই ৫০ একরের বিশাল এই মাঠটি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জেলার বরুড়া, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক ব্যানার-ফেস্টুন হাতে প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন।
তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে (তৎকালীন কুমিল্লা স্টেডিয়াম) একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ দুই যুগ পর তার সরাসরি উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। জনসভায় আসা নাঙ্গলকোটের যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা শুধু তাকে এক নজর দেখার জন্য কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি।”
আজকের দিনটি ছিল তারেক রহমানের জন্য বেশ ব্যস্ত। সকালেই তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। এরপর সড়কপথে কুমিল্লায় আসার পথে চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী এবং সবশেষে দাউদকান্দি—এই তিনটি পৃথক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। প্রতিটি সমাবেশস্থলেই নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কুমিল্লার জনসভায় তারেক রহমান মূলত তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন জানান, “তারেক রহমানের এই সফর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কয়েক লাখ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা কী।”
জনসভাকে ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে বিশাল গণজোয়ার সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

