রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে সময় নষ্ট না করে বরং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনী পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ নিয়ে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণের লাভ তখনই হবে যখন আমরা পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করতে পারব।”
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নিজের নানাবাড়ি ফেনীতে পা রাখলেন তারেক রহমান। তাকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই ফেনী শহর ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। জনসভায় তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য তার দলের ‘ভিশন’ বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের খেটে-খাওয়া নারী ও গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে চাই। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা সরাসরি গৃহিণীদের হাতে পৌঁছাবে। এটি হয়তো পুরো মাসের খরচ মেটাবে না, কিন্তু অন্তত এক সপ্তাহের স্বস্তি তো দেবে।”
একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে তারেক রহমান বলেন, “ফেনীতে আমরা মেডিকেল কলেজ করব, তবে আমাদের লক্ষ্য কেবল বড় হাসপাতাল নয়। আমরা সারা দেশে ‘হেলথকেয়ার’ ব্যবস্থা গড়ে তুলব, যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন। গুরুতর অসুস্থতা না হলে কাউকে কষ্ট করে দূরে হাসপাতালে যেতে হবে না।”
ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যার কথা স্মরণ করে তিনি পুনরায় সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে খাল খননের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “খাল খনন করলে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, কৃষি ও মৎস্য চাষেও বিপ্লব আসবে।”
বেকারত্ব দূরীকরণে তারেক রহমান কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “তরুণদের কেবল বিদেশে পাঠালেই হবে না, তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাতে হবে। দক্ষ হয়ে বিদেশে গেলে তারা যেমন ভালো বেতন পাবেন, তেমনি দেশের রেমিট্যান্সও বাড়বে।” এছাড়া চট্টগ্রামের মতো ফেনী অঞ্চলেও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EPZ) বা কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ফেনীর শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের বিপ্লব আমাদের সেই পরিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “জনগণই বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, আমরা আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না।” এর আগে তারেক রহমান বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের বিভিন্ন আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

