২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তরের জনপদ। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম এক অগ্নিঝরা বক্তব্য রাখেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কি অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে সামনে এগোবে, নাকি আবার অন্ধকার অতীতে ফিরে যাবে।
পঞ্চগড়-১ আসনের এই সংসদ সদস্য প্রার্থী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা এক ধাপ পেরিয়েছি মাত্র। কিন্তু আগামীর ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।”
সারজিস আলম তার বক্তব্যে চাঁদাবাজ, দখলদার এবং মিথ্যা মামলার কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “যারা দিনে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলে আর রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের মদত দেয়, তাদের দিন শেষ। সাধারণ মানুষকে হুমকি ও হয়রানি করা তথাকথিত জননেতাদের এবার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে বয়কট করবে।”
শিক্ষা ও প্রশাসনিক বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদল মানুষ শিক্ষার কথা মুখে বললেও নিজেদের চাটুকারদের দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে। শ্রমিকদের সন্তানদের শ্রমিক বানিয়ে রেখে নিজেদের সন্তানদের বিদেশে আয়েশি জীবন নিশ্চিত করার যে অপরাজনীতি দেশে চলছে, তার কবর রচনা করতে হবে এবারই। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও কোনো রাজনৈতিক প্রভাবে প্ররোচিত না হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশাল এই সমাবেশে ১০ দলীয় জোটের ঐক্যের কথা উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, “আল্লাহ আমাদের স্বাধীনতার পর প্রথম এমন একটি সুযোগ দিয়েছেন। আগামী ৫০ বছরেও এমন সুযোগ আসবে কি না জানি না। তাই এই আমানতের খেয়ানত করা যাবে না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি কোণায় এখন একটিই ধ্বনি উঠবে—১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম। এছাড়া পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. সফিউল আলমসহ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চগড়ের এই বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে যে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন জোট এবং তরুণ নেতৃত্বের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সারজিস আলমের মতো পরিচিত মুখগুলোর অংশগ্রহণ নির্বাচনী সমীকরণকে অনেকটা বদলে দিচ্ছে।

