“আমরা ঘোষণা দিয়েছি—চাঁদা আমরা নিই না এবং কোনো চাঁদাবাজকে আমরা চাঁদা নিতে দেব না।” শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর–এ–শহীদ বড় ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এভাবেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই বিপ্লব না হলে আজ এভাবে মানুষের অধিকারের জন্য প্রকাশ্যে লড়াই করা সম্ভব হতো না। তিনি দিনাজপুরের ১১ জন শহীদসহ সারা দেশের সকল জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সংহতি জানান।
দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিশ্রুতি দিনাজপুরকে ‘শস্য ভাণ্ডার’ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, দেশের মোট খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেওয়া সত্ত্বেও এই অঞ্চলটি কেন আজও সিটি কর্পোরেশন পায়নি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশসেবার সুযোগ পায়, তবে দিনাজপুর শহরকে ইনশাআল্লাহ সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে। এতে এই অঞ্চলের উন্নয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্বরান্বিত হবে।”
উত্তরবঙ্গ হবে কৃষি শিল্পের রাজধানী ২০২৬ সালের আধুনিক বিশ্বে কৃষির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, উত্তরবঙ্গকে আগামীতে দেশের ‘কৃষি শিল্পের রাজধানী’ করা হবে। প্রতিটি ফসল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণাগার (Cold Storage) স্থাপন করা হবে যাতে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পান এবং সারা বছর বাজারে মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার দিনাজপুরে বিদ্যমান গ্যাস সংকট নিরসনে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে কয়লা পাওয়া যাওয়ায় গ্যাসের সম্ভাবনাও প্রবল। যদি গ্যাস নাও পাওয়া যায়, তবে জাতীয় গ্রিড থেকে দিনাজপুরের নায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া শিশু ও প্রবীণদের জন্য (৫ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের উপরে) বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের সাহসী ঘোষণা দেন তিনি।
নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মায়েরা আমাদের সম্মানের জাতি। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মা-বোনেরা ঘরে, বাইরে এবং কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা পাবেন।” তিনি আরও বলেন, এমন এক বাংলাদেশ গড়া হবে যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যাবে না এবং দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ বানানোর স্বপ্ন কেউ দেখবে না। যারা অতীতে টাকা পাচার করেছে, তাদের ধরে এনে শাস্তির মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার কাছে দিনাজপুর-১ আসনের প্রার্থী মতিউর রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রশাসনের প্রতি তিনি দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান।

