আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে পুণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে রাজধানী ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন তিনি। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও সিলেট—উভয় বিভাগেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি বিমানবন্দর থেকে তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তারেক রহমানের এই সফরের শুরুটা হচ্ছে এক আধ্যাত্মিক আবহে। সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার রাতেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সিলেট থেকে নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করা এবং মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে যাত্রা আরম্ভ করার একটি গভীর ঐতিহ্য রয়েছে, যা তারেক রহমান পুনরায় বজায় রাখলেন।
মাজার জিয়ারত শেষে তিনি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তার সফরের মূল আকর্ষণ থাকছে বৃহস্পতিবার সকালে। সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট শহর এখন পোস্টার, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের সরাসরি জনসভায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দলের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের চাঙা করতে এই সফরের বিকল্প নেই।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তিনি উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন বলে দলীয় কর্মসূচি থেকে জানা গেছে। তবে সিলেটের এই শুরুটাকেই দলের জন্য সবচেয়ে বড় ‘মোমেন্টাম’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী দল সজাগ অবস্থানে রয়েছে। সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই পদচারণায় সিলেটের রাজপথ এখন উৎসবমুখর এবং রাজনৈতিকভাবে উত্তাল।

