মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি ভাড়াবাসার বন্ধ ঘর থেকে মা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহতরা হলেন আমেনা বেগম (৩৫) এবং তার ১০ বছর বয়সী শিশুকন্যা মরিয়ম। আমেনা বেগমের স্বামী মিজান মিয়া একজন দিনমজুর। ঘটনার পর থেকেই মিজান পলাতক থাকায় তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে মিজান মিয়া তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে দক্ষিণ রাজানগর গ্রামের নুরুজ্জামান সরকারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা ওই ঘর থেকে দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় তারা জানলা দিয়ে উঁকি দেন এবং একপর্যায়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে প্রবেশ করতেই মেঝেতে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা এটি পারিবারিক কলহ কিংবা পরকীয়াসংক্রান্ত কোনো বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি হতে পারে। ঘাতক অত্যন্ত নৃশংসভাবে দুজনকে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেছে।”
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “নিহত আমেনা বেগমের স্বামী মিজান মিয়া পেশায় দিনমজুর। ঘটনার পর থেকে তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই এই জোড়া খুনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।”
শান্ত এই গ্রামে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারটি এলাকায় নতুন হওয়ায় তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য কারোর জানা ছিল না। তবে ১০ বছরের শিশু মরিয়মের এমন করুণ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির ফরেনসিক টিমকেও খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

