বিকেলের শান্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হলো এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়। মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর মিলগেইট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হলেন—মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শাহ আলমের ছেলে রুমান (২৫)। বাকি দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘সার্বিক পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস মহাসড়কের মিলগেইট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ইজিবাইককে সজোরে চাপা দেয়। বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকটি খেলনার মতো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের পাশের একটি গভীর খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা ইজিবাইকের ভেতর থেকে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। এছাড়াও বাসের ভেতর থাকা ও ইজিবাইকের আরও কয়েকজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।
খবর পেয়ে মস্তফাপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। মহাসড়কের পাশে বাসটি উল্টে থাকায় উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এই ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।
মস্তফাপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ জানান, “আমি বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছি। ঘাতক বাসটি উদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে।”
মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রুমানের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

