সাভার পৌর এলাকার থানা রোড সংলগ্ন পরিত্যক্ত ‘পৌর কমিউনিটি সেন্টার’ যেন এক বিভীষিকার জনপদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে থাকা এই ভবনটি থেকে আজ রবিবার দুপুরে আবারও দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের দেহ এতটাই দগ্ধ যে চেনার উপায় নেই, তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—মরদেহ দুটি এক নারী ও এক ছেলে শিশুর।
অভিশপ্ত এই ভবনে এটিই প্রথম নয়, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে এখান থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সাভারবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। আজ দুপুরে সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক কাজ সারতে পরিত্যক্ত ওই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে বীভৎস দৃশ্যটি তার চোখে পড়ে। পোড়া গন্ধ আর মানুষের কঙ্কালসার দেহ দেখে তিনি দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ভবনের ভেতর থেকে পুড়ে যাওয়া দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের ধারণা, খুনিরা হত্যার পর পরিচয় আড়াল করতে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে যাই এবং পোড়া মরদেহ দুটির সন্ধান পাই। মরদেহের অবস্থা খুবই খারাপ, পরিচয় শনাক্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”
এই পরিত্যক্ত ভবনটি যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মনে এখন তীব্র আতঙ্ক। কারণ, গত বছরের ২৯ আগস্ট এই একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ১১ অক্টোবর এক নারীর অর্ধনগ্ন দেহ এবং ১৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় তলার টয়লেট থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নিয়ে একই ভবন থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আগের তিনটি খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কেন ভবনটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন থানা রোডের বাসিন্দারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, জনশূন্য ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ায় অপরাধীরা এই ভবনটিকে নিরাপদ মনে করছে। মা ও শিশুর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক কোনো শত্রুতা নাকি অন্য কোনো চক্র জড়িত, তা নিশ্চিত হতে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে।
থানা রোডের সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনের বেলাতেও এখন এই ভবনের পাশ দিয়ে যেতে ভয় পান তারা। পরিত্যক্ত এই ভবনটি অবিলম্বে ভেঙে ফেলা অথবা কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে, জোড়া খুনের এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

