লক্ষ্মীপুরে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তুচ্ছ ঘটনার জেরে শুরু হওয়া এই বিরোধ দ্রুত সংঘাতের রূপ নিলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় চরশাহী ইউনিয়নের একটি বাড়িতে আয়োজিত মহিলা জামায়াতের এক ‘কুরআন তালিম’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী নেত্রীরা উপস্থিত সাধারণ নারীদের কাছে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং ভোটারের তথ্য জানতে চান। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি কর্মী বোরহান উদ্দিন ও রাসেল ভূঁইয়ার সাথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কেন পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে এবং এর প্রয়োজনীয়তা কী—এই প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা রাসেল ভূঁইয়া জামায়াতের যুব বিভাগের সেক্রেটারি আব্দুর রহমানকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ৫ জন এবং বিএনপির ৩ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। আহত জামায়াত নেতারা হলেন— চরশাহী ইউনিয়ন যুব বিভাগের সহ-সভাপতি সাকিব হোসেন, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাওলানা হেজবুল্লাহ সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা এমরান হোসেন এবং শাহাদাত হোসেন খোকন। অন্যদিকে বিএনপির আহত কর্মীদের মধ্যে রাসেল ভূঁইয়া ও কামাল হোসেনের নাম জানা গেছে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর শহরে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই এই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতাদের দাবি, জামায়াত কর্মীরা নারীদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে অসাধু উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করায় তারা প্রতিবাদ করেছিলেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের দাবি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিএনপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
খবর পেয়ে রাতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। ওই সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকলে পুনরায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক পুলিশি প্রহরা জোরদার করা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, “ভোটের তথ্য বা পরিচয়পত্র চাওয়া নিয়ে মূলত এই হাতাহাতির সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

