ফেনী-৩ আসনে নির্বাচনী লড়াই জমে ওঠার সাথে সাথে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই এবং দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও জনসমাগম করে উঠান বৈঠক করার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কৌশুল্লা গ্রামে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সমর্থনে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে আকবর হোসেন এবং তার স্ত্রী শাহিনা আকবর উপস্থিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বা বিশেষ অনুমতির তোয়াক্কা না করে প্রচারণামূলক এই কর্মকাণ্ড পরিচালনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম। তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই শেষে নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আকবর হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সভা বা বৈঠক করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আজ দক্ষিণ কৌশুল্লা গ্রামে আইন অমান্য করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর দায়ে এই জরিমানা করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কবির আহাম্মদ ডিপলু পরিশোধ করেছেন।
ফেনী-৩ আসনে সম্প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আরও কয়েকটি লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে সোনাগাজী ও দাগনভূঞার বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা এবং ভোটারদের উপহার সামগ্রী বিতরণের অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত নেতাদের জরিমানা করা হয়েছিল। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে বা প্রভাব খাটিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

