বাংলাদেশের ক্রিকেটে ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার পর অবশেষে ইতিবাচক মোড় নিতে শুরু করেছে পরিস্থিতি। সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘কোয়াব’ (COAB)। দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থ এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিগুলোর কথা বিবেচনা করে শর্ত সাপেক্ষে আগামীকাল শুক্রবার থেকেই বিপিএলসহ সব ধরনের খেলায় ফিরতে রাজি হয়েছেন ক্রিকেটাররা। আজ বৃহস্পতিবার রাতে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোয়াব তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
উল্লেখ্য যে, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ বিপিএলের ঢাকা পর্বের দুটি ম্যাচই পণ্ড হয়ে যায়। ক্রিকেটাররা মাঠে না নামায় বিসিবি টুর্নামেন্টটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার উপক্রম হয়েছিল। তবে দিনভর দফায় দফায় বৈঠকের পর ক্রিকেটাররা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করেছেন।
কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল ব্যক্তিগত আবেগ বা ক্ষোভ নয়, বরং জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকেই তারা মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ ক্রিকেটের চলমান জটিলতা নিয়ে আমাদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা হয়েছে। আমরা উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের নারী জাতীয় দল বর্তমানে নেপালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলছে, ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপে ব্যস্ত এবং মূল জাতীয় দলের সামনেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসর রয়েছে। এই মুহূর্তে সব ধরনের খেলা বন্ধ থাকলে এই দলগুলোর পারফরম্যান্স ও মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিপিএল আমাদের ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা আমাদের আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছি।”
মাঠে ফেরার সবুজ সংকেত দিলেও ক্রিকেটাররা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তারা বোর্ডকে ধন্যবাদ জানালেও তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি থেকে সরে আসেননি। কোয়াবের দাবিগুলো হলো:
১. প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা: এম নাজমুল ইসলাম যেহেতু প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের অপমান করেছেন, তাই তাকে প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিকভাবে সকল ক্রিকেটারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ২. পরিচালক পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া: বোর্ড যেহেতু তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং তার পরিচালক পদ থেকে চূড়ান্ত অপসারণের জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত সময় চেয়েছে, ক্রিকেটাররা সেই সময় দিতে রাজি হয়েছেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি যেন থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
কোয়াব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিসিবি যদি এম নাজমুল ইসলামের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং তার পদচ্যুতির প্রক্রিয়া চলমান রাখে, তবে তারা আগামীকাল শুক্রবার থেকেই মাঠে নামতে প্রস্তুত। এর ফলে স্থগিত হয়ে যাওয়া বিপিএল আবারও প্রাণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের এই নমনীয় অবস্থানকে বোর্ড ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এম নাজমুল ইসলাম তার করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান কি না এবং বোর্ড পরবর্তী পদক্ষেপে কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখে। যদি আজ রাতেই এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়, তবে আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবারও দর্শকদের উল্লাস আর ব্যাটে-বলের লড়াই দেখা যাবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, সম্মানের লড়াই বজায় রেখেও ক্রিকেটের স্বার্থকে সবার উপরে রাখা একজন প্রকৃত পেশাদার খেলোয়াড়ের পরিচয়। এখন বিসিবির ওপর বড় দায়িত্ব হলো এই সমঝোতাকে টেকসই করা এবং ক্রিকেটারদের আত্মসম্মান বজায় রাখা।
