বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ খ্যাত শিল্পী আসিফ আকবর তার স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য সর্বদা পরিচিত। কেবল গানই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নানা ইস্যু নিয়ে তিনি প্রায়ই নিজের মতামত প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়ে আসিফ আকবর দেশের বিনোদন জগতের শীর্ষ কয়েকজন তারকার উদ্দেশে কিছু শাণিত ও গঠনমূলক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই প্রশ্নগুলোর তালিকায় রয়েছেন মেগাস্টার শাকিব খান থেকে শুরু করে রক লিজেন্ড জেমস এবং আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণি।
সাক্ষাৎকার চলাকালীন আসিফ আকবর বিশেষ করে শাকিব খানের সিনেমার গানের মান ও কণ্ঠশৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, শাকিব খান যখন পর্দায় সংলাপ দেন, তখন তার কণ্ঠস্বর একরকম শোনায়, কিন্তু যখন কোনো গানে তিনি পারফর্ম করেন, তখন কণ্ঠের সেই গাম্ভীর্য বজায় থাকে না। আসিফ বলেন, “সংলাপ দেওয়ার সময় কণ্ঠ বলিষ্ঠ শোনালেও গানের ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই তা অনেকটা চিকন বা কোমল হয়ে যায়।” তিনি শাকিব খানের কাছে জানতে চান, যে ইন্ডাস্ট্রিতে এক সময় কিংবদন্তি সব কণ্ঠশিল্পীরা প্লেব্যাক করতেন, সেখানে বর্তমানের এই ধারাটি তিনি কীভাবে উপভোগ করছেন। আসিফের এই পর্যবেক্ষণ মূলত চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক বা নেপথ্য সংগীতের ব্যাকরণ মেনে চলার প্রয়োজনীয়তাকেই ইঙ্গিত করে।
নগরবাউল জেমসকে নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানান আসিফ আকবর। জেমসের মতো একজন বিশাল মাপের শিল্পীর নীরবতা তাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। আসিফ প্রশ্ন রাখেন যে, দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংকট বা বড় কোনো আন্দোলনে জেমসকে কেন সক্রিয়ভাবে দেখা যায় না। জেমস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখলেও শিল্পীদের পেশাগত সমস্যা কিংবা জাতীয় কোনো সংকটের মুহূর্তে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ কেন শোনা যায় না—সেই রহস্যের উত্তর জানতে চেয়েছেন আসিফ। আসিফের মতে, জেমসের মতো মহীরুহদের থেকে দেশ ও জাতি সংকটে পথপ্রদর্শক ভূমিকা আশা করে।
সবচেয়ে কৌতুহল উদ্দীপক প্রশ্নটি তিনি করেছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণিকে নিয়ে। পরীমণির জীবনযাত্রা ও বিভিন্ন সময় সৃষ্ট বিতর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে আসিফ তাকে কিছুটা ‘খামখেয়ালি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “পরীমণি, তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে?” আসিফ মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রতিনিয়ত নতুন কোনো নাটকীয়তা বা আলোচনার কেন্দ্রে থাকার চেয়ে পরীমণির উচিত নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে থিতু হওয়া। আসিফ তাকে পরামর্শ দেন যেন তিনি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেন এবং সঠিকভাবে ‘সেটেল ডাউন’ হন। তার এই প্রশ্নটি মূলত পরীমণির প্রতি একজন বড় ভাইসুলভ শাসন এবং শুভকামনা হিসেবেই দেখছেন ভক্তরা।
আসিফ আকবর কেবল এই তিন তারকা নন, অভিনেত্রী দীপা খন্দকারসহ আরও অনেকের বিষয়েই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, বিনোদন জগতের মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং গঠনমূলক সমালোচনা থাকা প্রয়োজন, যাতে ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক মান উন্নত হয়। আসিফের এই স্পষ্টবাদী প্রশ্নগুলো ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলেও অনেকেই তার সাহসিকতার প্রশংসা করছেন। শিল্পীদের দায়িত্ব কেবল বিনোদন দেওয়া নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করা—আসিফের এই সাক্ষাৎকারে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে আসিফ আকবর নতুন গানের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সবসময় সত্য কথা বলার সাহসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চিনিয়েছে। তার করা এই প্রশ্নগুলোর জবাবে শাকিব খান, জেমস কিংবা পরীমণি পাল্টা কোনো মন্তব্য করেন কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় আছেন বিনোদন প্রেমীরা।
