ঢাকাই চলচ্চিত্রের অত্যন্ত আলোচিত ও দর্শকপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি বর্তমানে অবকাশ যাপনের জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ব্যস্ত শিডিউল আর শুটিংয়ের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে তিনি বেছে নিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মালয়েশিয়াকে।
সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভ্রমণের একগুচ্ছ মনোমুগ্ধকর ছবি প্রকাশ করে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনার সৃষ্টি করেছেন এই গ্ল্যামারাস তারকা। তার শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা গেছে সমুদ্রের নীল জলরাশির পটভূমিতে এক ভিন্নধর্মী ও প্রাণবন্ত পরীমণিকে, যা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নীল জলরাশি আর বালুকাময় সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরীমণি বর্তমানে অবস্থান করছেন মালয়েশিয়ার একটি অভিজাত রিসোর্টে। সেখান থেকে প্রকাশিত ছবিতে তাকে দেখা গেছে বেশ ফুরফুরে ও চনমনে মেজাজে। হোটেলের সুপরিসর বারান্দায় দাঁড়িয়ে তোলা এই ছবিগুলোতে তার পরিধানের পোশাকে ছিল আধুনিকতার ছোঁয়া।
স্লিভলেস টপস, ছোট প্যান্ট এবং চোখের রোদ চশমা—সব মিলিয়ে এক অনন্য মোহনীয় রূপে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থপূর্ণভাবে লিখেছেন যে সেখানে কোনো শীত নেই, যা তার বর্তমান আরামদায়ক ও উষ্ণ আমেজকে প্রকাশ করে। শীতকালীন তুষারপাত বা ঠান্ডার আমেজ থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে এমন সময় কাটানো যে তার জন্য বেশ তৃপ্তিদায়ক, সেটি তার অভিব্যক্তি দেখলেই বোঝা যায়।
পরীমণির এই গ্ল্যামারাস উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছবিগুলো কয়েক হাজার লাইক এবং অসংখ্য মন্তব্য পেয়েছে। ভক্তরা তাদের প্রিয় অভিনেত্রীর রূপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। নেটিজেনদের মন্তব্যের ঘরে দেখা গেছে মিশ্র অথচ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া।
কেউ কেউ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সমুদ্রের নীল জলরাশির মিতালিকে অসাধারণ বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ তার উচ্ছল হাসিকে সৌন্দর্যের মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একজন অনুরাগী লিখেছেন যে পরীমণি সবসময়ই অনন্যা এবং তার প্রতিটি ছবিই এক একটি গল্পের মতো। ভক্তদের এমন ভালোবাসা আর সমর্থন পরীমণিকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করে, যার প্রতিফলন তার নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পরীমণি তার অভিনয় দক্ষতা এবং গ্ল্যামারের কারণে সংবাদপত্রের শিরোনামে থেকেছেন। কেবল বড় পর্দায় নয়, ব্যক্তিগত জীবনের নানা আনন্দ-বেদনার মুহূর্তগুলোও তিনি তার ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন। এই ধারাবাহিকতায় তার মালয়েশিয়া ভ্রমণও ভক্তদের জন্য এক বিশেষ উপহার হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
রূপালি জগতের দীর্ঘ ব্যস্ততার পর প্রতিটি তারকারই নিজের জন্য কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। পরীমণিও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি মনে করেন, সৃজনশীল কাজের জন্য মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর এই ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করছেন তার নিজস্ব ভঙ্গিতে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাস ধরেই পরীমণি বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সিনেমার বড় পর্দা—সব জায়গাতেই তার পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। কাজের এই নিরবচ্ছিন্ন চাপের পর নিজেকে কিছুটা সময় দিতেই তিনি এই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন।
তবে দেশের বাইরে থাকলেও তিনি যে তার ভক্তদের কথা ভুলে যাননি, তার প্রমাণ মেলে তার নিয়মিত ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে। তিনি মনে করেন, ভক্তদের সঙ্গে এই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগই একজন শিল্পীকে দীর্ঘকাল মানুষের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখে। মালয়েশিয়ার মনোরম পরিবেশে তোলা এই ছবিগুলো কেবল তার ভ্রমণের স্মৃতি নয়, বরং তার ব্যক্তিজীবনের স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও প্রতীয়মান হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে পরীমণির এই নতুন অবতার নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য এমন ভ্রমণ অত্যন্ত জরুরি। সমুদ্রের বিশালতা মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার শক্তি যোগায়।
পরীমণি সম্ভবত সেই নতুন শক্তির সন্ধানেই এখন সমুদ্রের পাড়ে সময় কাটাচ্ছেন। সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলের ব্যালকনি থেকে তোলা ছবিগুলোতে তার চোখের আত্মবিশ্বাস এবং শান্ত ভঙ্গি এটিই নির্দেশ করে যে তিনি বর্তমানে জীবনের এক সুন্দর সময় পার করছেন। শীতের আমেজহীন এই তপ্ত সৈকতে তার উপস্থিতি যেন এক পশলা রোদের মতোই উজ্জ্বল।
পরীমণির এই ভ্রমণ শেষ করে কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন এবং নতুন কোন প্রজেক্টে হাত দেবেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঢালিউড পাড়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে আপাতত তিনি কোনো তাড়াহুড়ো না করে প্রকৃতির স্বাদ নিতেই বেশি আগ্রহী। তার এই অবকাশ যাপন কেবল নিজের জন্য নয়, বরং তার ভক্তদের জন্যও এক ধরণের বিনোদন হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিটি ছবির পেছনে থাকা গল্প আর তার ক্যাপশনের রসবোধ মানুষকে বিনোদিত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে একজন তারকা এবং তার ভক্তদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে পরীমণি সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।
পরিশেষে বলা যায়, মালয়েশিয়ার সৈকতে পরীমণির এই গ্ল্যামারাস উপস্থিতি তার ব্যক্তিত্বের এক সাহসী ও আধুনিক দিককে পুনরায় ফুটিয়ে তুলেছে। শীতকে বিদায় জানিয়ে উষ্ণতার খোঁজে তার এই যাত্রা সার্থক হয়েছে বলেই মনে করছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর আকাশের মিতালির মাঝে পরীমণি হয়ে উঠেছেন এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
তার এই ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত যেমন তাকে নতুনভাবে আবিস্কার করতে সাহায্য করছে, তেমনি ভক্তদেরও দিচ্ছে নতুন কোনো সংবাদের খোরাক। চলচ্চিত্র জগত ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি যেভাবে এগিয়ে চলছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
