দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১৭ জন বাংলাদেশিকে পুশ ইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চাড়ালডাংগা সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বুধবার ভোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা তাদের আটক করে হেফাজতে নিয়েছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটককৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ৫ জন নারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাদের সবার বাড়ি খুলনা ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। ভারতের উত্তরপ্রদেশের আগ্রা কারাগারে দীর্ঘ তিন বছর কারাভোগ শেষে বিএসএফ তাদের জোরপূর্বক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সীমান্ত পিলার ২১৯/২৯-আর সংলগ্ন এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সংবাদ পেয়ে বিজিবি টহল দল সতর্ক অবস্থানে ছিল। বুধবার ভোরে গোমস্তাপুর উপজেলার শিবনগর বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে জীবিকার সন্ধানে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে তাদের তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সাজা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের কারা কর্তৃপক্ষ তাদের স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিএসএফ কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রাতের অন্ধকারে তাদের সীমান্ত পার করে দেয়।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে বিএসএফের তৎপরতা বৃদ্ধির পর ভোরে এই দলটিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। আটককৃতদের মধ্যে থাকা শিশুরা দীর্ঘ পথ চলায় এবং শীতের মধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই ধরনের পুশ ইন বা অনানুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত পারাপারের ঘটনা দুই দেশের সীমান্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রায়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত কোনো নাগরিকের সাজা শেষ হলে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে স্বদেশে প্রত্যাবাসন (রিপ্যাট্রিয়েশন) হওয়ার কথা থাকলেও, এক্ষেত্রে বিএসএফের এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আটক ব্যক্তিদের বর্তমানে গোমস্তাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা দায়ের করা হবে কি না কিংবা মানবিক বিবেচনায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তে বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
