আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শফিকুল ইসলাম মাসুদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন বা কৌশলগত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শফিকুল ইসলাম মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দলের হাইকমান্ড থেকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনি মাঠ থেকে সরে না দাঁড়ানো এবং দলীয় সংহতি নষ্ট করার অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ শেরপুর জেলা রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। তিনি এর আগে জেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নেওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নতুন সমীকরণের মুখে পড়েছে।
শেরপুর সদর আসনে মাসুদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। একদল নেতা-কর্মী তাঁর অনুসারী হিসেবে মাঠে থাকলেও, মূল দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে মাসুদের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত দলের নির্বাচনি লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে কোনো বিদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে জেলা নেতাদের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শফিকুল ইসলাম মাসুদের মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার বহিষ্কার শেরপুর-১ আসনের নির্বাচনি লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দেবে। দলীয় সমর্থন হারানো মাসুদের পক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে জয়লাভ করা কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অন্যদিকে, বিএনপি এখন এই আসনে তাদের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রেখে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বাইরে যারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন বা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। শফিকুল ইসলাম মাসুদের বহিষ্কার সেই কঠোর অবস্থানেরই একটি অংশ।
