দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টার চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৪ জন জেলে। নগদ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা মুক্তিপণ প্রদানের পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া মাঝেরচর সংলগ্ন একটি দুর্গম চরে তাঁদের নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে নৌ-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানিয়েছেন, গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিনের পক্ষিয়া ইউনিয়নের সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারযোগে আসা একদল সশস্ত্র জলদস্যু তাঁদের অপহরণ করে। অপহৃত জেলেরা হলেন— বোরহানউদ্দিন উপজেলার জয়া ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামের মহিউদ্দিন মাতাব্বর (৪০), টবগী ইউনিয়নের দালালপুর গ্রামের মো. সবুজ (২২), বজলু মাঝি (৩৮) ও শরীফ (৩০)।
জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা জেলে মহিউদ্দিন ও শরীফ তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি দ্রুতগামী ট্রলার এসে তাঁদের ঘিরে ফেলে। দস্যুরা প্রত্যেকের চোখ বেঁধে অস্ত্রের মুখে ট্রলারে তুলে নেয়। এরপর তাঁদের লক্ষ্মীপুর সীমান্ত সংলগ্ন একটি নির্জন চরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। দস্যুরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে এবং মুক্তিপণ আদায়ের জন্য চাপ দেয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জেলেদের জীবন বাঁচাতে স্বজনরা ধারদেনা করে জলদস্যুদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা পাঠান। টাকা প্রাপ্তির পর জলদস্যুদের আচরণে পরিবর্তন আসে। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁদের পুনরায় ট্রলারে তুলে দীর্ঘক্ষণ নদীতে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে নদীতে একটি অচেনা স্পিডবোটের আলো দেখে দস্যুরা পুলিশের তল্লাশি মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ট্রলারটি তীরের কাছে ভিড়িয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বোরহানউদ্দিন নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে পুলিশ নিরবচ্ছিন্নভাবে মোবাইল ট্র্যাকিং ও অভিযান পরিচালনা করেছে। দস্যুরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে চরে অবস্থানরত জেলেদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে নৌ-পুলিশ।
নৌ-পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে, দস্যুদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী জেলেরা বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাঁরা অজ্ঞাতনামা জলদস্যুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হওয়ার পর অপরাধীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মেঘনা নদীতে জলদস্যুদের ক্রমবর্ধমান উপদ্রব মোকাবিলায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সাধারণ জেলেরা। তাঁরা মনে করেন, কঠোর নজরদারি না থাকলে নদীতে জীবিকা নির্বাহ করা তাঁদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।
