ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দিলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জুলফিকার হোসেন উল্লেখ করেন, গত ১১ জানুয়ারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তাঁর দেওয়া বক্তব্যটি ছিল মূলত ক্যাম্পাসে চলমান ‘একপাক্ষিক’ পরিবেশের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। তিনি বলেন, “মেডিক্যাল কলেজটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এবং এটি আমাদের অঞ্চলের গর্ব। আমি এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কথা ভাবতেও পারি না।”
বিএনপি নেতার দাবি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত সভায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি অভিযোগ করেন, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিল সাধারণ ছাত্রদের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে যে বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলে তাদের শিক্ষাজীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
জুলফিকার হোসেন বলেন, “আমি যখন জানতে পারলাম যে ছাত্ররা জীবন ও পড়াশোনার ভয়ে একটি দোয়া মাহফিলে আসতে পারছে না, তখন আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। ছাত্র রাজনীতি যদি কেবল একটি পক্ষের (ছাত্রদল) জন্য বন্ধ থাকে আর অন্য পক্ষ পর্দার আড়ালে কাজ চালায়, তবে সেই দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।”
কলেজ বন্ধের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে তিনি নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমি সরাসরি কলেজ বন্ধের হুমকি দেইনি। আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, যদি একটি পক্ষকে দমন করে রাখা হয় এবং অন্য একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ অধ্যক্ষের মদদে কার্যক্রম চালায়, তবে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে ক্যাম্পাসে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আর এমন অস্থিতিশীল পরিবেশে স্বাভাবিকভাবেই একাডেমিক কার্যক্রম বা ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট একাডেমিক কাউন্সিলের যে সভায় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই কাউন্সিলে এখনো বিগত সরকারের ‘ফ্যাসিবাদী দোসররা’ সক্রিয় রয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সাথে আঁতাত করে ক্যাম্পাসকে ছাত্রদলমুক্ত রাখার চেষ্টা করছে।
নিজের বক্তব্যের দ্বিতীয় ব্যাখ্যায় কিছুটা নমনীয় হয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। আমার বক্তব্যে যদি নতুন প্রজন্ম বা দেশের মানুষ ভুল বুঝে থাকেন, তবে আমি তা সংশোধন করে নিতে চাই। আমি একজন সাধারণ ঘরের সন্তান হিসেবে বলতে চাই, যারা মনে করেছেন আমি এই চিকিৎসালয়টি বন্ধ করে দেব, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”
উল্লেখ্য, গত রোববার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলফিকার হোসেন বলেছিলেন, “আমার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যদি রাজনীতি করতে না পারে, তবে এই মেডিকেল কলেজে সব ধরণের রাজনীতি বন্ধ করে দেব। আর ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে এই মেডিকেল কলেজও বন্ধ হয়ে যাবে।” তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যার প্রেক্ষিতে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
