ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত বছর শুরু হওয়া সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলমান রয়েছে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২০২৬ সালের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইসলামাবাদকে সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান কোনো ধরনের ভুল বা দুঃসাহস দেখালে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, অপারেশন সিঁদুর কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের আক্রমণ ছিল না, বরং এটি একটি চলমান কৌশল। তিনি জানান, এই অভিযানের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী এমনভাবে মোতায়েন ছিল যে, পাকিস্তানের কোনো ভুলের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থল অভিযান (Ground Offensive) শুরু করতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। পেন্টাগন স্টাইলে পরিচালিত এই অভিযানে ভারতের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী (Tri-service synergy) সমন্বিতভাবে অংশ নেয়।
অভিযানের ব্যাপ্তি: ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলে এই ৮৮ ঘণ্টার হাই-ইনটেনসিটি অপারেশন। টার্গেট: পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) ভেতরে অবস্থিত ৯টি প্রধান সন্ত্রাসী আস্তানা। সাফল্য: ভারত দাবি করেছে, অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়বা ও জৈশ-ই-মহম্মদের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়ে ১০০-এর বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়েছে।
কৌশলগত পরিবর্তন: সেনাপ্রধানের মতে, এই অপারেশন পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ‘পারমাণবিক বাগাড়ম্বর’ বা নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেইলকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
১০ মে ২০২৫-এ দুই দেশের ডিজিএমও (DGMO) পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও শান্ত নয়। জেনারেল দ্বিবেদী জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে ভারতীয় বাহিনী ৩১ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি নাগরিক। এমনকি পেহেলগাম হামলার মূল তিন হোতাকেও ‘অপারেশন মহাদেব’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।
ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহানও সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন যে, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানকে তাদের সামরিক ও সাংবিধানিক কাঠামো পুনর্গঠন করতে বাধ্য করেছে। পাকিস্তান তাদের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির পদ বাতিল করে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (CDF) পদ সৃষ্টি করেছে, যা তাদের সামরিক দুর্বলতারই প্রতিফলন বলে মনে করে ভারত।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে স্থানীয় সন্ত্রাসীর সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিসর বাড়িয়েছি। পাকিস্তান যদি মনে করে তারা পুরোনো পদ্ধতিতে উস্কানি দিয়ে পার পেয়ে যাবে, তবে তারা ভুল করছে। আমাদের সেনাবাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সেকেন্ডের ব্যবধানে যুদ্ধের ময়দানে নামতে প্রস্তুত।”
