দীর্ঘ পঁচিশ বছরের দীর্ঘসূত্রতা আর আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেলেন বলিউডের ‘নবাব’ সাইফ আলি খান। ভোপালের পতৌদি পরিবারের বিতর্কিত ১৫ হাজার কোটি রুপির সম্পত্তি নিয়ে চলা মামলায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঐতিহাসিক এক রায় দিয়েছেন ভারতের ভোপাল জেলা আদালত। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আড়াই দশকের আইনি যুদ্ধের অবসান ঘটল এবং জয়ী হলেন পতৌদির ছোট নবাব সাইফ আলি খান।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোপাল জেলা আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পতৌদির নবাবদের মালিকানাধীন ১৬.৬২ একরের এই সুবিশাল স্থাবর সম্পত্তি অন্য কোনো পক্ষের কাছে বেহাত হচ্ছে না। এই বিপুল পরিমাণ জমি নিয়ে আইনি বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২৮ বছর আগে, ১৯৯৮ সালে।
সেই সময় আকিল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা আদালতে দাবি করেছিলেন যে, ১৯৩৬ সালে ভোপালের তৎকালীন শাসক নবাব হামিদুল্লাহ খান ওই জমিটি তাদের পূর্বপুরুষদের উপহার হিসেবে প্রদান করেছিলেন।
নিজেদের জমির বৈধ উত্তরাধিকারী দাবি করে তারা আদালতে মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর আদালত সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। রায় প্রদানের সময় বিজ্ঞ বিচারক উল্লেখ করেন যে, মামলাকারীরা তাদের দাবির সপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য দলিল, ঐতিহাসিক নথিপত্র বা অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ঘটনার প্রায় ষাট বছর পর এই মামলা দায়ের করাকে আদালত ‘অস্বাভাবিক বিলম্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেওয়ায় ১৫ হাজার কোটি রুপির এই বিশাল সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে টিকে থাকলেন সাইফ আলি খান।
এই সম্পত্তির নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ রাজকীয় ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভারতের ভোপাল ছিল একটি স্বাধীন করদ রাজ্য বা প্রিন্সলি স্টেট। এই রাজ্যের শেষ নবাব ছিলেন হামিদুল্লাহ খান, যিনি সম্পর্কে সাইফ আলি খানের বাবা মনসুর আলি খান পতৌদির নানা।
নবাব হামিদুল্লাহ খানের তিন কন্যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যা আবিদা সুলতান ১৯৫০ সালে পাকিস্তানে চলে যান। তবে দ্বিতীয় কন্যা সাজিদা সুলতান ভারতেই থেকে যান এবং সাইফের দাদা ইফতিকার আলি খান পতৌদির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, সাজিদা সুলতানই এই বিশাল সম্পত্তির বৈধ মালিক হন এবং তার সূত্র ধরেই সাইফ আলি খান এই সম্পত্তির অংশীদার।
মাঝে ২০১৯ সালে আদালত সাজিদা সুলতানকে বৈধ উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করলেও আবিদা সুলতানের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কারণে ভারত সরকার এই সম্পত্তির একাংশকে ‘শত্রু সম্পত্তি’ বা ‘এনিমি প্রপার্টি’ হিসেবে দাবি করেছিল। পরবর্তীতে সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হলেও স্থানীয় কিছু পক্ষের দাবির মুখে সম্পত্তিটি আবারও আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যায়।
তবে নতুন বছরের শুরুতেই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে এখন বড় ধরনের স্বস্তি ফিরল পতৌদি পরিবারে। সাইফ আলি খান কেবল বলিউডের সফল অভিনেতাই নন, বরং এই রায়ের পর তার রাজকীয় উত্তরাধিকার ও আভিজাত্য আরও সুসংহত হলো।
