টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিনা উস্কানিতে গুলিবর্ষণ এবং এর ফলে এক বাংলাদেশি শিশু গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কাও সো মো-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের জন্য গভীর উদ্বেগ ও কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোঁড়া গুলিতে এক শিশু আহত হওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত কাও সো মো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হলে তাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিকে এভাবে গুলি চালানো কেবল অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সীমানায় এ ধরনের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রতিবেশি দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রাথমিক শর্ত হলো সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলি ও উস্কানিমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারকে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যকার সংঘাত যাই হোক না কেন, তার আঁচ যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের ভেতরে না পৌঁছায়। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা যেন কোনো ধরনের ঝুঁকির মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অপরিহার্য দায়িত্ব।
আলোচনা চলাকালীন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কাও সো মো সীমান্তে ঘটা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য এবং আহত শিশু ও তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস প্রদান করেন যে, বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি তিনি দ্রুতই তার সরকারকে অবহিত করবেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে মিয়ানমার সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই টেকনাফ ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ওপারে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সরাসরি বাংলাদেশের লোকালয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সীমান্তবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে টহল জোরদার করেছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
