বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রাতরাশ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ এই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়—সে বিষয়ে উভয় পক্ষ বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে জার্মানির কারিগরি সহায়তা এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন ডা. শফিকুর রহমান।
রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সঙ্গে এই বৈঠকে জার্মান দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও প্রেস অফিসার শারলিনা নুজহাত কবির উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় কেবল নির্বাচনই নয়, বরং বাংলাদেশের টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তার দেশের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের নারী অধিকার রক্ষা ও উন্নয়ন নিয়েও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান কর্মক্ষেত্রে নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদা সুরক্ষায় জার্মানির আধুনিক কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রকল্পের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেগবান হবে বলে উভয় পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের এই ধরনের ধারাবাহিক সাক্ষাৎ ও আলোচনাকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠক শেষে দুই পক্ষই ভবিষ্যতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
