ফেনীর দাগনভূঞায় এক অটোরিকশা চালককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে তার যানটি ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন নির্জন এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত চালকের নাম সমীর কুমার দাস (২৮)। তিনি উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন শোকের মাতম চলছে নিহতের স্বজনদের মধ্যে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সমীর কুমার দাস দীর্ঘ দিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সকালেও তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তবে রাত গভীর হওয়ার পরেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় তার স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
পরে রাত ২টার দিকে দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে সমীরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থলে নিহতের অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ববিরোধ রয়েছে কি না, সেই দিকগুলোও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরিসহ ছিনতাইয়ের উপদ্রব বেড়েছে। তারা দ্রুত ঘাতকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

