ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি ও সরকারি বরাদ্দের হরিলুট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগই জনপ্রতিনিধি ও তাদের সহযোগীদের পকেটে চলে যায়, ফলে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে ভোটারদের সাথে এই সভায় মিলিত হন তিনি।
এমপিদের অর্থনৈতিক অসততার বিশদ বিবরণ দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যায়, এমপি সাহেবরা সরকারি বরাদ্দের প্রায় ৫০ শতাংশ নিজেরা রেখে দেন। তাদের অনুসারী ও সহযোগীরা নেন আরও ২৫ শতাংশ। বাকি অংশের মধ্যে ঠিকাদাররা ২০ শতাংশ পকেটে ভরেন। ফলে মূল কাজের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ টাকা অবশিষ্ট থাকে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্য যদি সৎ থাকেন, তবে কোনো ঠিকাদারের সাধ্য নেই সরকারি কাজে চুরি করার। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি দলের হোক বা স্বতন্ত্র—সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ সমান থাকে। তাই জনসেবায় মূল বাধা অর্থ নয়, বরং সদিচ্ছা ও সততার অভাব।
রুমিন ফারহানা পানিশ্বর এলাকার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, “পানিশ্বরের জনসমর্থনের জোয়ার পুরো সরাইল ও আশুগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। এই এলাকার মানুষ যাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত এমপি নির্বাচিত হন।” নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অতীতের মতো পানিশ্বরের মানুষ তাকেও হতাশ করবে না। “আপনারা আমার বাবাকে যেভাবে জিতিয়েছিলেন, আমাকেও সেভাবেই বিজয়ী করবেন বলে আমার বিশ্বাস,” যোগ করেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার পরিবারের প্রায় সবাই বিদেশে থাকেন। দেশে আমার কোনো পিছুটান নেই। বিজয়ী হওয়ার পর ক্ষমতার ফল ভোগ করার জন্য আমার কোনো আত্মীয় লাইনে দাঁড়াবে না। বরং আমার বিদেশের স্বজনরাই আমাকে এই নির্বাচনে সহযোগিতা করছেন। তারা এদেশে এসে ভাগ বসাবেন না, সেই ফল ভোগ করবে আমার এলাকার সাধারণ জনগণ।”
এ সময় তিনি এলাকার অর্থনীতিতে প্রবাসীদের বিশাল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরাই গ্রামের ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। তাদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা একজন এমপির নৈতিক দায়িত্ব।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করবেন। তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য হলো ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। আশা করি, হাঁস মার্কা নিয়েই আমি নির্বাচনে লড়ব।”
উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর রুমিন ফারহানা এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকছেন বিএনপি জোট সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রভাবশালী নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এখন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

