আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি ভারতকে বাদ দিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার বিসিবির দাবি সরাসরি নাকচ করে দিতে পারে।
পরিবর্তে, ভারতকে নিরাপদ প্রমাণ করতে চেন্নাই ও তিরুবনন্তপুরমকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে বিসিবিও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ও আইসিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কলকাতা ও মুম্বাইয়ের পরিবর্তে দক্ষিণ ভারতের এই দুই ভেন্যুকে ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হবে। আইসিসির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হতে পারে যে, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভেন্যু স্থানান্তর করা লজিস্টিক বা কারিগরি কারণে প্রায় অসম্ভব। এছাড়া, বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের বর্তমানে ভারতে অবস্থান ও খেলা পরিচালনার উদাহরণ টেনে আইসিসি বিসিবিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতে পারে যে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত।
তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত ১০ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বিসিবির অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “ভারতের অন্য ভেন্যু মানে তো ভারতেই খেলা। আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি যে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
তিনি আরও জানান যে, এই সিদ্ধান্তটি কেবল বিসিবির নয়; বরং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অর্থাৎ, আইসিসি ভারতের ভেতরে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেও বিসিবি তা গ্রহণ করবে না বলেই জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ভেন্যু বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে গত ৩ জানুয়ারি। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থীদের হুমকির অযুহাতে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বিসিবি তাদের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
বিসিবির যুক্তি হলো—যেখানে একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সেখানে পুরো জাতীয় দল, সাপোর্টিং স্টাফ ও সমর্থকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে।
বিসিবির এই অনড় অবস্থানের সুযোগ নিতে তৎপর হয়ে উঠেছে অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোও। শ্রীলঙ্কা আগেই সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়েছিল। আজ নতুন করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রস্তাব দিয়েছে যে, শ্রীলঙ্কা যদি কোনো কারণে অপারগ হয়, তবে তারা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে আইসিসি এখন পর্যন্ত ‘হাইব্রিড মডেল’ বা নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যাপারে কোনো নমনীয়তা দেখায়নি।
পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিসিবি যদি ভারতে যেতে অনাগ্রহী থাকে, তবে বাংলাদেশ দল বড় ধরনের শাস্তির সম্মুখীন হতে পারে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বৈশ্বিক আসরে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের পয়েন্ট কর্তন এমনকি টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিও থাকে। আজকের (সোমবার) মধ্যেই আইসিসি তাদের আনুষ্ঠানিক চিঠিতে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠাতে পারে, যার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপে টাইগারের ভাগ্য।
