দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজ জেলা বগুড়ায় যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০০৬ সালের পর এটিই তার প্রথম বগুড়া সফর, যা ঘিরে উত্তরবঙ্গের এই জনপদে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই সফরের প্রধান কর্মসূচি হিসেবে সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক বিশাল গণদোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গণদোয়া মাহফিলের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে এই ঐতিহাসিক গণদোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান ১১ জানুয়ারি (রোববার) ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে দুপুরে টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন এবং বিকেলে বগুড়ায় পৌঁছাবেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজ জেলায় তার আগমনকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার রাতে তিনি বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন এবং পরদিন সকালে সেন্ট্রাল হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে প্রিয় নেতা তারেক রহমান আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন। আমরা আশা করছি, কয়েক লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে।”
গণদোয়া মাহফিল সফল করতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বগুড়া পৌরসভার উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া তারেক রহমানকে বরণ করতে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তোরণ ও ব্যানার টানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নিরাপত্তা ইস্যুতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতাউর হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারেক রহমানের সফর এবং গণদোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। যানজট নিরসন এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা ও ট্রাফিক পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়ার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই তাদের এই ‘মাটি ও মানুষের’ নেতাকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। স্থানীয়দের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর বগুড়ায় এটিই হতে যাচ্ছে বিএনপির সবথেকে বড় শক্তি প্রদর্শন।
দোয়া মাহফিল শেষে তারেক রহমানের রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই উত্তরবঙ্গ সফর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

