বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে উড়ন্ত সূচনা বজায় রেখেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আগের ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করার পর, এবার সিলেট টাইটানসের বিপক্ষেও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে তারা। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে শেখ মেহেদী হাসানের দল। এই জয়ের ফলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে পেছনে ফেলে তালিকার এক নম্বরে উঠে এলো বন্দরনগরীর প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরুতে টস জিতে সিলেট টাইটানসকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই চট্টগ্রামের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও তোপের মুখে পড়ে সিলেটের ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে কোনো এক পর্যায়ে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় স্বাগতিকদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় সিলেট।
সিলেটের পক্ষে একমাত্র আফগান অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি ৪১ বলে ৪৪ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। তবে দলের অন্য কোনো ব্যাটার তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি; এমনকি কেউই ২০ রানের কোটা স্পর্শ করতে সক্ষম হননি। চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ও মির্জা বেগ দুটি করে উইকেট নিয়ে সিলেটের মিডল অর্ডারে ধস নামান। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম ও আমির জামাল একটি করে উইকেট শিকার করে রানের চাকা টেনে ধরেন।
১২৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং উপহার দেন। উদ্বোধনী জুটিতেই তারা ১১৫ রান তুলে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন। নাঈম শেখ ব্যক্তিগত ৫২ রানে আউট হয়ে ফিরলেও, জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন রসিংটন। ইংলিশ এই ব্যাটার ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসটি ছিল আক্রমণাত্মক শটে ভরপুর। নাঈমের আউটের পর ক্রিজে আসা সাদমান ইসলাম ৭ রানে অপরাজিত থেকে রসিংটনের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন। চট্টগ্রাম যখন জয় পায়, তখনও ম্যাচের ২৪ বল বাকি ছিল।
টানা দুই ম্যাচে এমন বড় ব্যবধানের জয় চট্টগ্রামের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে দলটির বোলিং ও ওপেনিং জুটি বিপিএলের অন্য দলগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে এমন পরাজয়ে সিলেট টাইটানস কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল। পয়েন্ট টেবিলের এই শীর্ষস্থান ধরে রাখাই এখন চট্টগ্রামের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
