ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের অভিযোগে নোয়াখালীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ রোববার দুপুরে জেলা শহরের সদর উপজেলা এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে একটি গ্যাস পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এবং একটি বেকারিকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সূত্রমতে, লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য কার্যকর নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সদর উপজেলার দত্তবাড়ী মোড় এলাকায় অভিযান চালায় সংস্থাটি। সেখানে দেখা যায়, ‘মেসার্স নীড় এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি এলপিজি গ্যাস পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ১২ কেজির প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৩ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি করছে। ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রতি সিলিন্ডারে ১৯৭ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
একই দিনে সদর উপজেলার দত্তের হাট এলাকায় অপর এক অভিযানে ‘মেসার্স স্ট্যান্ডার্ড বেকারি’ নামক একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী তৈরি করছে। এছাড়া উৎপাদিত কেকের মোড়কে পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বা মেয়াদের কোনো উল্লেখ ছিল না, যা ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় এবং আইন অমান্য করায় ওই বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি। সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের তদারকি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। যারা আইন অমান্য করে অসাধু উপায়ে ব্যবসা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অভিযান চলাকালীন সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং সততার সাথে ব্যবসা করার আহ্বান জানানো হয়। আজকের এই বাজার তদারকি কার্যক্রমে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্স টিমের সদস্যবৃন্দ এবং জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি সুসজ্জিত দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত এমন অভিযানের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানিয়েছেন।

