আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তারেক রহমানের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আজ সকালে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা তারেক রহমানের দাখিলকৃত হলফনামা, আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র এবং অন্যান্য কারিগরি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। সকল তথ্য সঠিক ও আইনসম্মত হওয়ায় তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ বলে গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তারেক রহমান। বগুড়া-৬ আসনটি বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত এবং এই আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই জিয়া পরিবারের জন্য একটি বিশেষ আবেগের স্থান।
একই আসনে তারেক রহমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দৌড়ে টিকে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তার মনোনয়নপত্রটিও আজ বৈধ বলে ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ফলে বগুড়া-৬ আসনে এবার একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে একই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী দিলরুবা নূরীর জন্য আজকের দিনটি ছিল হতাশার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করার দায়ে কমিশন তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্রে ঘাটতি থাকায় আইনগতভাবেই বাসদ প্রার্থীর আবেদনটি গ্রহণের সুযোগ ছিল না।
তারেক রহমানের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এটি কেবল দলের জন্য নয়, বরং গোটা বগুড়াবাসীর জন্য এক বড় জয়ের বার্তা। তারা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ নির্বাচনী মাঠে কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে তারেক রহমান কেবল বগুড়া-৬ আসন থেকেই নয়, বরং রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৯ ডিসেম্বর তার পক্ষ থেকে বগুড়ায় এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই প্রতিটি প্রার্থীর আবেদন যাচাই করা হয়েছে। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে বগুড়া শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়কে ঘিরে কড়া পুলিশি পাহারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারেক রহমানের প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে বগুড়ার রাজনৈতিক আঙিনায় এক নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

