আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যের অসংগতি ও সম্পদের বিবরণী সঠিকভবে উপস্থাপন না করায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এই সিদ্ধান্ত জানান।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। আজ দুপুর আড়াইটা থেকে এই আসনের প্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর দেখা যায়, নাগরিক ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিলকৃত হলফনামায় তথ্যের ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তথ্যের এই অসংগতি গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ তাঁর হলফনামায় সম্পদের বিবরণী সংক্রান্ত নির্দিষ্ট ফরমটিই দাখিল করেননি, যা মৌলিক বিধি লঙ্ঘনের শামিল।
যাচাই-বাছাই শেষে এই আসনে ৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। তবে মাহমুদুর রহমান মান্না ও শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর পাশাপাশি আরও দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সেলিম সরকার। অবশিষ্ট একজন প্রার্থীর প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী উপস্থিত না থাকায় তাঁর প্রার্থিতা যাচাইয়ের বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রতিটি নথিপত্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করেছি। শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ তাঁর সম্পদের বিবরণী ফরম জমা না দেওয়ায় এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার তথ্যে অমিল থাকায় আইনত তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে আমরা বাধ্য হয়েছি। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।”
বগুড়া-২ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মনোনয়ন বাতিল হওয়াটা সাধারণ ভোটারদের কাছে অভাবনীয় ছিল। এখন আপিল বিভাগে এই প্রার্থীরা তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পান কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে শিবগঞ্জ আসনের চূড়ান্ত নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

