প্রচলিত ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবস্থাতেই কর্মজগতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘বি হাইভ’ শিরোনামে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফিনটেক প্রতিষ্ঠান বিকাশ। সাধারণত উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ মিললেও, বিকাশের এই নতুন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাই কর্পোরেট খাতের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাচ্ছেন। মূলত তরুণ মেধাবীদের আগাম প্রস্তুতির পথরেখা তৈরি করে দিতেই এই বিশেষ আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এই প্রোগ্রামে দেশের ১৮টি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। চার দিনব্যাপী এই বিস্তারিত কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা বিকাশের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। এই প্রোগ্রামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় বা ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন’। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রজেক্ট তৈরি, বাস্তবায়ন এবং ফিনটেক খাতের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানার সুযোগ পান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষার্থী মাইশা মাহিয়াত নাওলি তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “ফিনটেক খাতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলাম। কর্পোরেট অফিস কীভাবে কাজ করে এবং একটি প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী ধাপ পার করতে হয়, সে সম্পর্কে এখন আমার ধারণা অনেক বেশি স্বচ্ছ। নিজের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ মানচিত্র আঁকতে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করবে।”
বিকাশের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াটিও ছিল বেশ প্রতিযোগিতামূলক। বিপুল সংখ্যক আগ্রহী শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে বিভিন্ন ধাপে বাছাইয়ের পর এই ১৮০ জনকে নির্বাচন করা হয়। এই প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত কর্মজীবনে প্রবেশের প্রাথমিক চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করেছে।
বিকাশের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা ফেরদৌস ইউসুফ এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল ফিনটেক খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। বিকাশ দীর্ঘকাল ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ করে আসছে। ‘বি নেক্সট’, ‘জেন নেক্সট লিডার’, ‘বি-এইস’ ও ‘বিটেকউইজ’-এর মতো চলমান প্রোগ্রামগুলোর পাশাপাশি ‘বি হাইভ’ আমাদের একটি বিশেষ সংযোজন। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তখনই যেন তাঁরা আগামীর স্বপ্ন ও কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পান।”
বর্তমানে বিকাশ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নানামুখী ক্যারিয়ার প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। ‘জেন নেক্সট লিডার’ ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি প্রোগ্রামের মাধ্যমে সদ্য স্নাতক সম্পন্নকারীদের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ বিকাশে কাজ করা হচ্ছে। আবার ‘বি নেক্সট’ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজেক্টে বেতনভুক্ত হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। এছাড়াও ‘বি-এইস’ ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিকাশের একটি নিরবচ্ছিন্ন সেতুবন্ধন তৈরি করা হয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া ‘বি হাইভ’ এই ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল, যা শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
উল্লেখ্য যে, মানবসম্পদ উন্নয়নে বিকাশের এই সুদূরপ্রসারী ও কার্যকরী উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃতি লাভ করেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নেলসনআইকিউ’ পরিচালিত ক্যাম্পাস ট্র্যাক সার্ভেতে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে সেরা ‘এমপ্লয়ার অব চয়েস’ নির্বাচিত হয়েছে বিকাশ। নতুন এই উদ্যোগটি দেশের উচ্চশিক্ষার সাথে কর্মক্ষেত্রের যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
