বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কিংবদন্তি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশের এই শীর্ষ নেত্রীর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর এই মহাপ্রয়াণের সংবাদে জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মর্তুজা এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মর্তুজা তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অবদান এ দেশের মানুষ চিরকাল মনে রাখবে।
মাশরাফী তাঁর বার্তায় লেখেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক জানাচ্ছি। রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় ও দেশের সেবায় তাঁর যে অসামান্য অবদান, তা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।” তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহ যেন তাঁর বিদেহী আত্মাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং মাগফিরাত নসিব করেন।
মাশরাফীর পাশাপাশি শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের অন্যতম তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তিনি তাঁর বার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সকালে ইন্তেকাল করেছেন। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।” সাকিবের এই শোকবার্তায় কয়েক হাজার অনুসারী শোক প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, যা এই নেত্রীর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। তিন মেয়াদে দেশের শাসনভার পরিচালনা করা এই নেত্রী কেবল রাজনীতিতেই নয়, দেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারেও বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তাঁর শাসনামলে দেশের ক্রিকেট ও অন্যান্য ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়েছিল, তা আজও প্রশংসিত। বিশেষ করে নারী শিক্ষার পাশাপাশি যুব সমাজের উন্নয়নে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো এ দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
গত বেশ কিছু সময় ধরে বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজ সকালে তাঁর চিরবিদায়ে সমগ্র দেশে যে হাহাকার তৈরি হয়েছে, তার রেশ পৌঁছে গেছে খেলার মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দান পর্যন্ত। দেশের জনপ্রিয় এই দুই ক্রিকেটারের শোকবার্তা এটিই প্রমাণ করে যে, বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সকল স্তরের মানুষের কাছে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সরকার তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, যা তাঁর প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
