আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদী লুনা এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র আবরার ইলিয়াস আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. সারওয়ার আলমের নিকট তাঁরা পৃথকভাবে এই মনোনয়নপত্র পেশ করেন।
সিলেটের রাজনীতির এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল ও আবেগ সৃষ্টি করেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তাহসিনা রুশদী লুনা অত্যন্ত প্রত্যয়ী কণ্ঠে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সিলেট-২ আসনের আপামর জনতা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভোটাধিকার এবং ন্যায্য মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন। এলাকার মানুষ এখন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন চায় এবং ব্যালটের মাধ্যমেই তাঁরা এই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন।”
লুনা আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নিয়ে যদি তিনি জয়ী হতে পারেন, তবে জাতীয় সংসদে তিনি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলবেন। বিশেষ করে নারী উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। স্বামী এম ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, কঠিন সময়ে সিলেটের মানুষ যেভাবে তাঁদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তা আজীবন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই আসন থেকে মা ও ছেলের মনোনয়নপত্র জমার পেছনে রয়েছে বিশেষ কৌশলগত কারণ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেছে বিএনপি।
সেবার আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের আদেশে তাহসিনা রুশদী লুনার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে বিএনপি এই আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী রাখতে পারেনি। এবারও যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি কারণে লুনার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, তবে আবরার ইলিয়াস যাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই দ্বৈত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মা ও ছেলে উভয়েই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৮ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী না থাকায় এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে এবার ইলিয়াস পরিবারের সরাসরি অংশগ্রহণে সিলেটের রাজনৈতিক সমীকরণ যে বেশ জটিল রূপ নেবে, তা বলাই বাহুল্য। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন, যা নির্বাচনি আমেজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

