লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক বীভৎস ও বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনিরুল বাশার লিমনের বিরুদ্ধে এক মাকে হাত-পা বেঁধে রেখে তার শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার বিকেলে রাজপথে নেমেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
বিকেলে উপজেলার নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ‘এলাকাবাসীর উদ্যোগে’ এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছাত্র-জনতা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে এমন পৈশাচিক অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আসা পুরো সমাজের জন্য একটি ভয়ংকর সংকেত।” তারা আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দলের পদের অপব্যবহার করে কেউ যাতে বিচার এড়াতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। অবিলম্বে আসামিকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে রামগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের শাহজাহানের বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল বাশার লিমন ও তার সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, ঘরে ঢুকে তারা প্রথমে গৃহকর্তার স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং পরে তার চোখের সামনেই তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। এই নারকীয় ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত লিমন ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছে।
ঘটনার বিষয়ে রামগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল জলিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মোহাম্মদ শাহজাহান বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে ভিকটিমের প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা (ডিএনএ প্রোফাইলিং ও শারীরিক পরীক্ষা) সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, প্রধান অভিযুক্তসহ জড়িতরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে।
এই পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হবে।

