আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির সাবেক প্রভাবশালী নেতা ও দিনাজপুর পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। রোববার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তিনি এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি থেকে এই আসনে দলের শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁর পক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। একই আসনে দলের সাবেক এই শীর্ষ নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দিনাজপুরের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি ইতিপূর্বে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে টানা আরও দুইবার বিপুল ভোটে মেয়র হিসেবে জয়লাভ করে তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে এই আসনে মনোনয়ন দিলেও ওই সময় মেয়র পদে আসীন থাকায় আইনি জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করার পূর্ণ প্রস্তুতি আমার রয়েছে। আমি দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।” তবে দলের চেয়ারপারসনের আসনে কেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরই আলম সিদ্দিকী বিএনপি নেতা সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিনাজপুর-৩ আসনটি বিএনপির জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার বোন এবং তৎকালীন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো স্বয়ং খালেদা জিয়া এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।
এমন এক হেভিওয়েট প্রার্থীর আসনে নিজ দলের নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

