রাজধানীর রাজপথে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া। রোববার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর ট্রাফিক অফিসের সামনে প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে স্থানীয় প্রতিবাদী ছাত্র-জনতা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কর্মসূচির ফলে কুষ্টিয়ার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে আসে।
বিকেল ৩টার দিকে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে মজমপুর মোড়ে জড়ো হন। তারা সড়কের ওপর বসে পড়ে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবরোধের কারণে শহরের ব্যস্ততম মজমপুর এলাকা ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে যাতে বিপ্লবের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়। তারা বলেন, “ঘটনার এতোদিন অতিবাহিত হলেও মূল ঘাতকদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করা হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।” আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের ছাত্র-জনতা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারাবে।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং ঘাতকরা উপযুক্ত শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস পাওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুরো এলাকায় বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে হাদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে ছাত্র-জনতা।

