আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট না হলেও কৌশলগত কারণে ‘আসনভিত্তিক সমঝোতা’ হওয়ার পথ খোলা রয়েছে। রোববার দুপুরে রংপুর নগরীর স্কাইভিউ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
জিএম কাদের বলেন, “বিএনপি ও জাতীয় পার্টি—উভয় দলই অধিকাংশ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় একবার মনোনয়নপত্র জমা হয়ে গেলে পূর্ণাঙ্গ জোট করার সুযোগ থাকে না। তবে আমরা আসনভিত্তিক সমঝোতা করতে পারি। যেখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শক্তিশালী, সেখানে বিএনপি আমাদের সমর্থন দিতে পারে; আবার যেখানে আমাদের প্রার্থী তুলনামূলক দুর্বল, সেখানে আমরা বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি। তবে এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে এখনো আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা আলোচনা হয়নি।”
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশে কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই। তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি বর্তমানে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আমাদের তিনজন সংসদ সদস্য প্রার্থী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের একটি মামলায় জামিন হওয়ার পর আবারও জুলাইয়ের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটি মূলত আমাদের প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখার একটি অপচেষ্টা।”
জিএম কাদের আরও দাবি করেন, জাতীয় পার্টিই একমাত্র দল যারা ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সপক্ষে প্রথম দিন থেকে রেজুলেশন করে রাজপথে সক্রিয় ছিল। অথচ এখন সেই দলের প্রার্থীদেরই হত্যার মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বলেন, “নির্বাচন কমিশন অন্য দলগুলোকে দিনে দুইবার সময় দিলেও আমাদের অভিযোগ শোনার জন্য সময় দিচ্ছে না।”
আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের অত্যন্ত কৌশলী বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও এই দেশের নাগরিক এবং ভোটার। তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়নি। জামায়াত ও বিএনপি উভয়েই প্রকাশ্যে এই বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। জাতীয় পার্টি এ নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ লাঙল প্রতীকে ভোট দিতে পারে। নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলা যদি অপরাধ না হয়, তবে তাদের ভোট পাওয়াও কোনো অপরাধ হতে পারে না।”
এবারের নির্বাচনে নতুন প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নপত্র পূরণ অত্যন্ত জটিল করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সামান্য ভুলের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। তবুও প্রতিকূল এই পরিবেশকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে জাতীয় পার্টি জনগণের দ্বারে দ্বারে যাবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

