রাজধানীর রাজপথে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নাটোর। রোববার সন্ধ্যায় নাটোর শহরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু মাদ্রাসা মোড় এলাকায় ‘সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ছাত্র সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া প্রতিবাদী ছাত্র-জনতার স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। মিছিল পরবর্তী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব ফুয়াদ ভূঁইয়া, সমাজসেবা ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রিয়াজ উদ্দিন নোমান এবং ছাত্রশিবির নাটোর শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মন্ডল।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, “হাদি কোনো সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়; এটি মূলত ভিন্নমত দমন এবং সত্যের পক্ষে লড়াই করা প্রতিবাদী কণ্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি বর্বরোচিত ও ধারাবাহিক অপচেষ্টা মাত্র।” তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার এতোদিন অতিবাহিত হলেও মূল ঘাতকদের এখনো আইনের আওতায় না আনা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করছে।
আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, যারা দিনে-দুপুরে গুলি চালিয়ে একজন তরুণ নেতাকে হত্যা করতে পারে, তারা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার শত্রু। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রনেতারা বলেন, যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘাতকদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা না হয়, তবে নাটোরসহ সারা দেশের ছাত্র-জনতা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
বক্তব্য শেষে বক্তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক হত্যাকাণ্ড বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। শহীদ হাদির আত্মত্যাগ যাতে বৃথা না যায়, সেজন্য বিচারের শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাদ্রাসা মোড়ে এসে শেষ হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

